মিয়ানমার থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান

 মিয়ানমার থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারে গত ৯ মাস ধরে সামরিক শাসন চলছে। দেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। সেই সঙ্গে ধীর হচ্ছে অর্থনীতির চাকা। এমন পরিস্থিতিতে দেশটি থেকে এক এক করে চলে যাচ্ছে বিদেশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

মিয়ানমারে প্রচুর বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও অক্টোবরেই সেখান থেকে ব্যবসা গুটিয়ে চলে যাচ্ছে জার্মান হোলসেলার 'মেট্রো'।

২০১৯ সালে 'মেট্রো' মিয়ানমারে ব্যবসা শুরু করে। সংস্থাটি স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান ইয়োমা গ্রুপের ইয়োমা স্ট্র্যাটেজিক হোল্ডিংসের সঙ্গে যৌথভাবে সেখানকার হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবার সরবরাহ করে আসছিল।

শুধু জার্মান প্রতিষ্ঠান 'মেট্রো' নয়, মানবাধিকারের প্রশ্নে মিয়ানমার থেকে সরে আসতে হচ্ছে ইউরোপের অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকেও।

এর আগে গত জুলাইয়ে নরওয়ের টেলিকম সংস্থা টেলিনর গ্রুপ বলেছিল, তারা মিয়ানমারে তাদের মোবাইল কার্যক্রম ১০৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দেবে। তাদেরকে গোয়েন্দা সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্যে মিয়ানমারের সেনারা চাপ দিচ্ছিল।

একইভাবে চলতি বছরের মধ্যেই ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো মিয়ানমার ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। শুধু ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানই নয়, ভারতের আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনোমিক জোন গত বুধবার জানিয়েছে, তারা মিয়ানমার থেকে তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নেবে।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন মিয়ানমার ছাড়ছে তখন জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত। ২০১১ সালে মিয়ানমার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করলে জাপান সরকার সহায়তার হাত বাড়ায়। মিয়ানমারে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় জাপানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি।

একটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী বলেছেন, 'আমরা মিয়ানমারে এতো বিনিয়োগ করেছি যে সেখান থেকে সরে আসার সুযোগ নেই।'

আগামী ২০২৩ সালে মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছে সেনা কর্তৃপক্ষ। তাই কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অন্তত সেই সময় পর্যন্ত সেখানে থাকার কথা ভাবছে।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

Comments

Popular posts from this blog

স্ত্রী সন্তানের সঙ্গে আর দেখা হলো না ইউসুফের

ম্যারাডোনা এখন কলকাতায়

পাকিস্তানে তালেবান ও সৌদি যুবরাজের বৈঠক!