বন্যায় বাড়ি-ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হলেও ত্রাণ বঞ্চিত শতাধিক পরিবার
|
সৈয়দপুর শহরের পৌর ১১ নং ওয়ার্ডের কুন্দল গ্রামের পুর্ব পাড়ায় স্ত্রী,সন্তান,নাতীদের নিয়ে জরার্জীন একটি কুটিরে বসবাস করছেন মোঃ বেলাল উদ্দিন(৬৮)। টানা বৃষ্টি,উজানের ঢল আর শহরের খড়খড়িয়া নদীর পাটোয়ারী পাড়া এলাকায় শহর রক্ষা বাধটি ভেঙ্গে প্লাবিত হয়ে বেলাল উদ্দিনের কুটিরের প্রবেশ করে। এরপর বিকেল হতেই বাড়ির দড়জায় ১২০কিঃমিঃ গতির ¯্রােত শুরু হয়। বিদ্যুত বিপর্যয় আর ¯্রােতের কারনে ঘর হতে পারেন নি। এমনকি চুরি আর পোকামাকড়ের ভয়ে ঘরেই বসবাস করেন পরিবার নিয়ে। তিন সন্তানের কাজ কর্ম নেই। দিন কাটে অর্ধাহারে। ক্ষুধার জালায় বারবার সৈয়দপুর আশ্রয়কেন্দ্রে যান। তবে কোন সহায়তা পান না। অন্যন্য বন্যার্তরা তাকে পরামর্শ দেন এখানে আশ্রয় নিলে ত্রান পাওয়া যাবে। এ আশায় গত ১৫ আগষ্ট সন্ধায় হাতে ব্যাগ নিয়ে ৫ কেজি চালের আশায় যান আশ্রয়কেন্দ্রে। পরে সেখান থেকেও তাকে খালি হতে ফিরতে হয়। অবশেষে তার বাড়ির পাশে বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আসলেও তার তালিকায় নাম না থাকায় ত্রান সহায়তা বঞ্চিত হন। মন্ত্রীর ত্রান বিতরনে তার এলাকার প্রায় শতাধিক বন্যার্ত মানুষ কোন সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন পাওয়া গেছে। বেলাল উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ের একজন সক্রিয় নিয়মিত সৈনিক। সেই ১৯৬৭ হতে শুরু। এরপর মুক্তিযুদ্ধে গুপ্ত চোর হতে কাঠমিস্ত্রি পেশা বদলিয়ে ছদ্দবেশ ধারন করে রিক্সা চালক হন। প্রতিদিন ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্যাসেন্জার নিয়ে সেথায় অবস্থান করেন। এরপর পাক সেনার বহন কাজ করেন বিনে মুল্যে। পাকসেনার নির্যাতনে মাটি কেটেছেন বিমান বন্দর তৈরীতে। দেখেছেন টেক্কা আর ইয়াহিয়ার গোপন বৈঠক। তাদের সাথে অনাহারে থেকে নানা তথ্য সংগ্রহ করে ভারতের ফকিরগন্জ ক্যাম্পের অবস্থান কারি মুক্তিসেনা নিজাম এসে খবর নিয়ে ফিরতেন ব্যারাকে। এভাবে ছয় মাস গত হওযার পর নিজামকে দিনাজপুরের বেলতলিতে রাজাকাররা খবর পেয়ে হত্যা করে। পরে স্বাধীনতার প্রাক্কালে মিত্রবাহিনীরা সৈয়দপুর ওয়াবদায় তেলের ট্যাংকিতে বোমা বিস্ফরনের পরই সৈয়দপুর ছাড়েন এ মুক্তি বাহিনীর সোর্স। এলাকার প্রায় শতাধিক বানভাসি মানুষ স্থানিয় নেতৃবৃন্দের বৈষম্যে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। ওই এলাকার ছকবার লেবু, লিটন, আজিজার, নালখা, হাফেজুল, আফলা, জেনাবুল, মজনু, সাবু, গেদা, তৈয়ব, রুহুল, মিলনমনজের, মাহাবুলসহ শতাধিক বানভাসিরা অভিযোগ করেন। বিতরনের তালিকায় স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। না হলে কিভাবে একটি বন্যাকবলিত এলাকা বাদ দিয়ে ত্রান দেয়া হল। তাও আমাদের এলাকায় মন্ত্রীর মাধ্যমে। তাদের সকলের দাবি তদন্ত করে এ সহায়তা দেয়া হোক। এ নিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার বলেন, এটি পরিতাপের বিষয়। অন্তত মুক্তিযুদ্ধে যার এত অবদান এ বৃদ্ধমানুষসহ ওই এলাকার সকল বানভাসি যেন সঠিক ভাবে সরকারের সহায়তা পায়। সেদিকে অবশ্যই নজর রাখা উচিত কেউ যেন এ নিয়ে আখের গোছাতে না পারে। |
স্ত্রী সন্তানের সঙ্গে আর দেখা হলো না ইউসুফের
নিহত আলী মো. ইউসুফ ও তার সন্তান ইশা।ছবি: ইত্তেফাক স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলোনা আলী মো. ইউসুফের। স্ত্রী সন্তানের কাছে পৌঁছানোর আগেই তিনি ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এ যুবককে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার। নিহত ইউসুফ হবিগঞ্জের আনোয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান আলীর ছেলে। মঙ্গলবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলস্টেশনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে মারা যান তিনি । নিহত ইউসুফের প্রতিবেশী মো. জয়নাল মিয়া জানান, কয়েক বছর পূর্বে ইউসুফ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও গ্রামের চিশতিয়া বেগমকে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে চাকরি করছেন। তাদের ইশা বেগম নামে দেড় বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। আর ইউসুফ হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজ থেকে ২০১৫ সালে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করে লিটল ফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেন নামে একটি স্কুল পরিচালনা করছেন। স্কুলটির অধ্যক্ষের দায়িত্বও তিনি পালন করছিলেন। প্রায়ই তিনি স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে চট্টগ্রামে যাতায়াত করতেন। মঙ্গলবার উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে স্ত্রী ও সন্তানকে আনতে...
Comments